ঢাকা: সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ কে এম নুরুল হুদাকে রোববার (২২ জুন) সন্ধ্যায় উত্তরা থেকে আটক করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। এর আগে উত্তরা এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে বের করে এনে স্থানীয় জনতা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র ১৪ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে দেখা যায়, লুঙ্গি ও সাদা গেঞ্জি পরা এক ব্যক্তি;যাকে নুরুল হুদা বলে শনাক্ত করা হয়েছে,
তার গলায় দড়িতে ঝুলছে একজোড়া কালো জুতা। ভিডিওতে উপস্থিত একজনকে বলতে শোনা যায়, “ও যে স্বৈরাচার সৃষ্টি করছে, এটা ওর উপহার।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান ❝বাংলাদেশ দর্পণ❞-কে বলেন, “পুলিশ যাওয়ার আগেই উত্তেজিত জনতা তাকে ধরে ফেলে। পরে আমরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করি ও থানায় নিয়ে আসি। আপাতত নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে হেফাজতে রাখা হয়েছে।”
ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, “সাবেক সিইসির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আমরা মামলা পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা জানান, নুরুল হুদা উত্তরার একটি বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান ❝বাংলাদেশ দর্পণ❞কে বলেন, “খবর পেয়ে আমরা এবং স্থানীয়রা মিলে তাকে বাসা থেকে বের করি। পরে তাকে জনতার সামনে এনে জুতার মালা পরানো হয়। পরে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়।”
ঘটনার পেছনে রয়েছে সদ্য দায়ের হওয়া একটি মামলা। শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। সেখানে বলা হয়, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল ভোটারবিহীন ও অনিয়মপূর্ণ। এই তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা তিনজন সিইসি এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোট ২৪ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
তিনজন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার হলেন,কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, কে এম নুরুল হুদা ও কাজী হাবিবুল আউয়াল।
বিশেষ করে ২০১৮ সালের ‘নীশিরাতের নির্বাচন’ নামে পরিচিত ভোটে বিএনপি অংশ নিলেও আগের রাতে ব্যালট ভর্তি করে ফেলার অভিযোগ ওঠে। বিরোধী দল মাত্র সাতটি আসনে জয় পায়। সেই নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন নুরুল হুদা।
ঘটনাটি দেশের রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একজন সাবেক সাংবিধানিক পদধারী ব্যক্তিকে জনতার হাতে এমনভাবে অপমানিত হওয়া ইতিহাসে বিরল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক,
বাংলাদেশদর্পণ